ব্যস্ত নগরজীবনে দীর্ঘ ছুটি পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। তবে সপ্তাহের শেষে একদিনের ছুটিতেই ঢাকার আশেপাশে ঘুরে আসা যায় বেশ কিছু সুন্দর জায়গা থেকে। প্রকৃতি, নদী, ইতিহাস, স্থাপত্য কিংবা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের সময় সবকিছুর জন্যই রয়েছে দারুণ কিছু গন্তব্য।
আপনার পরবর্তী উইকেন্ড ট্রিপের জন্য দেখে নিতে পারেন ঢাকার আশেপাশের সেরা ১০টি ভ্রমণস্থান।
১. পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট, মুন্সীগঞ্জ
ঢাকার কাছেই মুন্সীগঞ্জ জেলার পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত পদ্মা লাক্সারি রিসোর্ট। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে মাওয়া যাওয়ার পর নদীপথে রিসোর্টের দিকে যেতে হয়। যাত্রাপথের নৌকা ভ্রমণ, পদ্মার বিস্তৃত জলরাশি এবং চারপাশের শান্ত পরিবেশ আপনার ভ্রমণে যোগ করবে বাড়তি আনন্দ।পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের ট্রিপের জন্য এটি হতে পারে চমৎকার একটি জায়গা। যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, তাদের জন্যও জায়গাটি বেশ উপভোগ্য।
২. জিন্দা পার্ক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জিন্দা পার্ক সবুজে ঘেরা একটি শান্ত ও মনোরম জায়গা। বিশাল জায়গাজুড়ে সবুজ পরিবেশ, লেক এবং বিভিন্ন স্থাপত্যের সমন্বয়ে পার্কটি তৈরি করেছে ভিন্ন ধরনের একটি আবহ।পরিবার নিয়ে ঘুরতে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে কিংবা একদিনের পিকনিক উপভোগ করতে জিন্দা পার্ক হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য। প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে এটি আপনার উইকেন্ডের তালিকায় রাখতে পারেন।
৩. পানাম নগর, সোনারগাঁও
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত পানাম নগর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রাচীন সোনারগাঁওয়ের এই ঐতিহ্যবাহী নগরীতে রাস্তার দুই পাশে রয়েছে বহু পুরোনো ভবন, যা এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যশৈলীকে তুলে ধরে।শত বছরের পুরোনো ভবন, পুরনো দিনের স্থাপত্য এবং ঐতিহ্যের আবহ ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য পানাম নগরকে করে তুলেছে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহ থাকলেও জায়গাটি হতে পারে ঢাকার কাছাকাছি একটি চমৎকার ডে-ট্রিপ।
৪. মেঘনা নদীর পাড়
ছুটির দিনের বিকেলটা যদি নদীর পাশে শান্ত পরিবেশে কাটাতে চান, তাহলে মেঘনা নদীর পাড় হতে পারে সুন্দর একটি অপশন। পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, নদীর পাড়ে হাঁটাহাঁটি, ছবি তোলা কিংবা নৌকা ভ্রমণ সবকিছুর জন্যই জায়গাটি উপভোগ্য।সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীর আশপাশে মায়াদ্বীপের মতো জায়গায় নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও রয়েছে। ব্যস্ত শহর থেকে অল্প সময়ের জন্য বেরিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে মেঘনা নদীর পাড় হতে পারে ভালো একটি উইকেন্ড গন্তব্য।
৫. নুহাশ পল্লী, গাজীপুর
গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত নুহাশ পল্লী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের তৈরি এক অনন্য সবুজ জগৎ। সবুজে ঘেরা বিশাল বাগান, নান্দনিক ভাস্কর্য, পদ্ম পুকুরসহ বিভিন্ন আকর্ষণ এখানকার পরিবেশকে করেছে ব্যতিক্রমী।সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে নুহাশ পল্লীর আলাদা একটি আবেদন রয়েছে। তবে শুধু সাহিত্যপ্রেমী নয়, পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গেও এখানে একটি সুন্দর দিন কাটানো যায়। প্রকৃতি ও নান্দনিক পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে এটি হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।
৬. সাফারি পার্ক, গাজীপুর
ঢাকার কাছেই গাজীপুরে অবস্থিত সাফারি পার্ক পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছাকাছি বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।বিশেষ করে শিশুদের জন্য সাফারি বাসে করে প্রাণীদের কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা হতে পারে বেশ রোমাঞ্চকর। তবে সাফারি বাসই এখানকার একমাত্র আকর্ষণ নয়। রয়েছে 3D থিয়েটার, বার্ড হাউসসহ আরও বিভিন্ন আয়োজন এবং বিশাল জায়গাজুড়ে ঘোরাঘুরির সুযোগ।সকাল সকাল ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সারাদিন পার্কে সময় কাটিয়ে সন্ধ্যার আগে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করাই সুবিধাজনক।
৭. বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি মূলত একটি বিশাল জমিদারবাড়ি কমপ্লেক্স, যেখানে পাশাপাশি রয়েছে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন ভবন।ভবনগুলোর সামনে বিশাল উঠান, খিলানযুক্ত দরজা-জানালা, স্তম্ভ এবং সূক্ষ্ম কারুকাজ পুরো স্থাপনাটিকে দিয়েছে রাজকীয় রূপ। পুরোনো স্থাপত্যের বিভিন্ন অংশে সেই সময়ের শিল্পরুচি ও নির্মাণশৈলীর পরিচয় পাওয়া যায়।ইতিহাসপ্রেমী, স্থাপত্যপ্রেমী কিংবা ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহীদের জন্য বালিয়াটি জমিদার বাড়ি হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের ছোট ভ্রমণের জন্যও জায়গাটি উপযুক্ত।
৮. মাওয়া ঘাট
মাওয়া ঘাটে গেলে প্রথমেই উপভোগ করতে পারবেন পদ্মা নদীর অপার সৌন্দর্য। তবে নদীর দৃশ্যের পাশাপাশি মাওয়া বর্তমানে জনপ্রিয় বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানের জন্যও।বিশেষ করে ইলিশের নানা পদের খাবারের স্বাদ নিতে অনেকেই মাওয়া ঘাটে ছুটে যান। পরিবার, বন্ধুদের গ্রুপ কিংবা যারা ঢাকার কাছাকাছি অল্প সময়ে নদী ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য মাওয়া ঘাট হতে পারে ভালো একটি অপশন।সকালে রওনা দিয়ে মাওয়া ঘাটে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেলে পদ্মার পাড়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে ঢাকায় ফিরে আসার পরিকল্পনা করা যায়। পরিবার ও শিশুদের সঙ্গে গেলে দিনের বেলায় ভ্রমণ করাই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ।
৯. বিক্রমপুর, মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানে ভ্রমণ করলে একই সঙ্গে ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।বিক্রমপুরের উল্লেখযোগ্য আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে রাঘুরামপুর বৌদ্ধবিহার, বল্লালবাড়ি ও বল্লাল দিঘি। ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানতে চাইলে বিক্রমপুর হতে পারে ঢাকার কাছাকাছি একটি চমৎকার ভ্রমণ গন্তব্য।
১০. গোলাপ গ্রাম, সাদুল্লাপুর
ঢাকার কাছেই সাভারের সাদুল্লাপুরের গোলাপ গ্রাম শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর জন্য দারুণ একটি জায়গা। বিশেষ করে গোলাপ ফুলের মৌসুমে পুরো গ্রামজুড়ে গোলাপের বাগান তৈরি করে এক অপূর্ব পরিবেশ।বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে কিংবা সুন্দর ছবি তুলতে চাইলে গোলাপ গ্রাম হতে পারে আকর্ষণীয় একটি জায়গা। ফুলের মৌসুমে, বিশেষ করে শীতকালে গেলে গোলাপের বাগানের সৌন্দর্য সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।সকালে গেলে রোদ ও ভিড় তুলনামূলক কম থাকে এবং ফুলের সতেজ সৌন্দর্যও উপভোগ করা যায়।
আপনার পরবর্তী উইকেন্ড কোথায়?
ঢাকার আশেপাশেই রয়েছে ইতিহাস, প্রকৃতি, নদী, স্থাপত্য ও বিনোদনে ভরপুর অসংখ্য জায়গা। তাই দীর্ঘ ছুটির অপেক্ষা না করে সপ্তাহের শেষে একদিনের ছোট্ট ভ্রমণেও নিজেকে দিতে পারেন নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ।পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয় মানুষ সঙ্গী যেই হোক, আপনার পছন্দের জায়গাটি বেছে নিয়ে পরিকল্পনা করে ফেলুন পরবর্তী উইকেন্ড ট্রিপ